পিয়াজের দামে ফের অস্থিরতা

 

ভোলা নিউজ ডেস্ক।।  হঠাৎ করেই পিয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রাজধানীতে দুই দিনে কেজিপ্রতি পিয়াজের দর ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। অথচ সরবরাহ স্বাভাবিক। তারপরও কেনও বেড়েছে এই নিত্যপণ্যের দাম- সরকার, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক তা কেউই জানেন না। সোমবার রাজধানীর বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

পিয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পিয়াজ মজুদ রেখে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সময় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

কাওরান বাজারের পিয়াজ বিক্রেতা মকবুল মিয়া গতকাল রাতে  বলেন, আমদানি কম হচ্ছে। যার ফলে দাম বাড়ছে। এছাড়া পিয়জের মৌসুম শেষের দিকে। তাই দামও চড়া। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে। মনপ্রতি পিয়াজের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা। তাই আমরাও বাড়িয়ে বিক্রি করছি। আগামীতে আরও দাম বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে দেশের সবচেয়ে বেশি পিয়াজ উতপাদন হয় ফরিদপুর জেলায়। এখানেই হঠাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবেই বেড়েছে পিয়াজের দাম। তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। হঠাৎ করে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিন আগেও ফরিদপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজারগুলোতে পিয়াজ বিক্রি হতো প্রতি কেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হতো ২৫ থেকে ২৮ টাকায়। গত শুক্রবার থেকে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারগুলোতে পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।

জেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পিয়াজ ২০ টাকা করে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০/৬২ টাকায়। হঠাৎ করে কেজিতে ২০/২২ টাকা বেড়ে যাওযার তেমন কোনো কারণ জানাতে পারেনি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে তারা বলছেন, ভারত থেকে পিয়াজ আমদানি বন্ধ থাকা এবং রাখী ব্যবসায়ীরা পিঁয়াজ বাজারে না ছাড়ার কারণেই পিয়াজের দাম বেড়েছে।

পিয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তাদের দাবি, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পিয়াজ মজুদ রেখে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা লাভের আশা করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান ক্রেতারা।

উল্লেখ্য প্রতিবছর দেশে পিয়াজের চাহিদা ২৫ লাখ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছর দেশে উৎপাদন হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টন। উৎপাদিত পিয়াজের ২৫ শতাংশ পচে যায়। তাই প্রকৃত উৎপাদন ১৯ লাখ ১১ হাজার টন। চাহিদার বাকি ঘাটতি মেটাতেই আমদানি করা হয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন।

SHARE