তজুমুদ্দিনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাংচুর

মনজু ইসলামঃভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।তজুমদ্দিন উপজেলার সম্ভুপুর ইউনিয়নে আধাবেলা হরতাল পালিত হয়েছে। আজ সোমবার উপজেলা থেকে বের হওয়ার হরতালের সময় সড়কের ওপর গাছ ফেলে দেওয়া, টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে সম্ভুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এই হরতাল ও সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েন উপজেলার মানুষ।সম্ভুপুর ইউনিয়ন (উত্তর) আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইদুজ্জামান বলেন, তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক দেওয়ান গতকাল রোববার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত শ্রমিক লীগ নেতা মো. মেরাজকে দেখতে যান। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে এবং গাড়ির চালককে পিটিয়ে জখম করে। এর প্রতিবাদে সম্ভুপুরে আধাবেলা হরতাল পালিত হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ সকাল ছয়টা থেকে স্থানীয় লোকজন সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে তজুমদ্দিন থেকে বের হওয়ার ও ঢোকার সড়ক অবরোধ করেন। ইউনিয়নের সব বাজারের দোকানপাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঝাড়ুমিছিল নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে তাঁরা মানববন্ধন করেন।স্থানীয় ও দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সম্ভুপুর ইউনিয়নের বেপারিকান্দি ও চাঁদপুর ইউনিয়নের কাজীকান্দি এলাকার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই বিরোধ এখনো চলছে। এই ঘটনার জের ধরে সর্বশেষ হামলার ঘটনাটি ঘটে।উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক দেওয়ান বলেন, উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজকে কারা যেন কুপিয়ে জখম করেছেন। তাঁকে দেখতে তিনি হাসপাতালের সামনে গাড়ি রেখে ভেতরে যান। এ ঘটনার সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইকবাল হাসান জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ইকবাল হাসান বলেন, ‘ফজলুল হক আমার মুরব্বি। তাঁর হাতে আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা কখনোই আমার পক্ষে সম্ভব না। মূলত কাজীকান্দির ক্ষুব্ধ লোকজন এটা করেছেন। আমি সোনাপুরের চেয়ারম্যান প্রার্থী। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শাহাবুদ্দিন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি হামলাকারীরা পালিয়ে গেছেন। তাঁদের ধরা যায়নি। তবে কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। আধাবেলার হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে বলে তিনি জানান।

SHARE