প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা না থাকায় চড়া সুদে মহাজনী ঋণ নিয়েছেন ৬৩% মানুষ

 

সোহেল মাহমুদঃ

প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা না থাকায় চড়া সুদে মহাজনী ঋণ নিয়েছেন ৬৩% মানুষ ঢাকা, ১১ মে ২০২০: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশে ঘোষিত লকডাউনের ফলে উপকূলে দরিদ্র মানুষের জীবিকার উপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে তা নিয়ে ৬টি জেলায় জরিপ করেছে কোস্ট ট্রাস্ট। এই জরিপে দেখা গেছে, লকডাউনের ফলে খাদ্য
সংকটে পড়েছেন ৫৭% পরিবার, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা না থাকা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন প্রায় ৬৩% এবং প্রায় ৪৬% পরিবারে বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা। সংস্থার মনিটরিং ও গবেষণা বিভাগ এ জরিপ পরিচালনা
করে। এই জরিপ সম্পর্কে কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় মহাজনী ঋণ শোধ করতে না
পারায় একজন দরিদ্র মানুষকে হত্যা করা হয়। নি¤œ আয়ের মানুষের সংকট বুঝতে পেরেই আমরা এই জরিপের সিদ্ধান্ত গ্রহন করি। তিনি আরো বলেন, খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের সহায়তায় কোস্ট ট্রাস্ট তার নিজস্ব আয় থেকে উপকূলীয় ৯টি জেলা ও ৪৯টি জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। কোস্ট ট্রাস্টের মনিটরিং ও গবেষণা বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ও বরিশালসহ ৬টি জেলায় সংস্থার ১২টি শাখার অধীনে ২৪০ জন দরিদ্র, নারী প্রধান
ও নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। ৮৩% উত্তরদাতা গ্রামে এবং ১৭% শহরে বাস করেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে ৫৭.৩% নারী-প্রধান পরিবার।
জরিপে দেখা যায়, ৪২% পরিবার ৩ বেলা খাদ্যগ্রহন চালিয়ে যেতে পারছেন। দিনে ২ বেলা খাদ্য গ্রহন করছেন ৫২% পরিবার এবং ৫% পরিবার একবেলা করে খাচ্ছেন।
সপ্তাহে ৩-৪ দিন মাছ, মাংস বা ডিম অর্থাৎ নিয়মিত প্রোটিন খেতেন ৫৬%
পরিবার, লকডাউনের ফলে যা নেমে এসেছে ১৩%। ৮৭% পরিবার এখন সপ্তাহে ১-২ দিন প্রোটিন গ্রহন করছেন। লকডাউনের ফলে পরিবারের আয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৪% পরিবারের, আয়
এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে ৩৯% পরিবারের এবং অর্ধেকে নেমে এসেছে ১৯%। নারী-প্রধান পরিবারের ক্ষেত্রে এই চিত্র ভিন্ন। আয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৬% পরিবারের এবং ৩০% পরিবারের আয় এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।
৬৩% পরিবার এই সংকট মোকাবেলায় চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন।
আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেছেন ১৮% পরিবার এবং কোথাও ঋণ পাননি
বলে জানিয়েছেন ১৩% পরিবার।
লকডাউনে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় সঞ্চয় ভেঙে ফেলেছেন ৪৮% পরিবার। গরু-ছাগল বিক্রি করে ফেলেছেন ৩৫% পরিবার। নারী-প্রধান পরিবারগুলোর মধ্যে ৩০% উত্তরদাতা বলেছেন সঞ্চয় ভাঙা, গরু-ছাগল বা গহনা বিক্রি করার মতো কোনো উপায় ছিল না।
৫৪% উত্তরদাতা বলেছেন, লকডাউনের ফলে তাদের পরিবারে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গালাগালি বা কট‚ক্তির ঘটনা ঘটেছে ৮২% পরিবারে। ৯% পরিবারে গায়ে হাত তোলা এবং ৯% পরিবারে যৌতুকের জন্য চাপ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
লকডাউন চলমান থাকলে কী করার পরিকল্পনা রয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে ৭৮% পরিবার বলেন তাদেরকে হয়ত এনজিও বা ব্যাংক হতে ঋণ নিতে হবে। না পাওয়া গেলে
চড়া সুদে স্থানীয় মহাজনের থেকে ঋণ করতে হবে। এছাড়াও বাদবাকি সঞ্চয় ভেঙে ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন ৩৮% পরিবার। গরু-ছাগল বা গহনা বিক্রি করে ফেলবেন ২০% পরিবার। দাদনে আগাম শ্রম বিক্রি করবেন ১৫%, নারী প্রধান পরিবারে এই হার ১৮%।
৯৪% পরিবার এনজিওর কাছ থেকে নানা ধরনের ঋণ সহায়তা চেয়েছেন, যা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। ৪১% উত্তরদাতা নতুন ঋণ চেয়েছেন, ১৩% চলমান ঋণ বৃদ্ধির দাবি করেছেন এবং ৪৩% সহযোগিতামূলক ঋণ বা আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঋণপ্রত্যাশিদের প্রায় সবাই তাদের জীবিকার জন্য বিনিয়োগ করবেন। ৬৯% পরিবার এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছ থেকে ত্রাণ সহায়তা দাবি করেছেন
এবং ২১% পরিবার নগদ অর্থ সহায়তা চেয়েছেন। কোস্ট ট্রাস্টের মনিটরিং ও গবেষণা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, খাদ্য সংকটে
পতিত নিম্ন আয়ের মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে চায়। সেজন্যই তাদের ঋণ প্রয়োজন। ক্ষুদ্র ঋণ বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা না থাকলে তারা চড়া সুদে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নেবেন অথবা সঞ্চয় ভেঙে আরো বিপদগ্রস্ত হবেন। বার্তা প্রেরক- রেজাউল করিম চৌধুরী (০১৭১১৫২৯৭৯২), মোস্তফা কামাল আকন্দ (০১৭১১৪৫৫৫৯১)
জরিপ সংক্রান্ত যে কোনো যোগাযোগ: ইকবাল উদ্দিন (০১৭১৩৩২৮৮৪১), বরকত
উল্লাহ মারুফ (০১৭১৩৩২৮৮৪০)

SHARE