ভোলায় করনা পরিস্থিতি

তাইফুর সরোয়ারঃ-  বাংলাদেশে করনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার প্রথম বারের মত একজনের মৃত্যু হওয়ায় সারা দেশের মত ভোলাতেও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল বেলা ১২ ঘটিকায় শহরের সদর রোড, নতুন বাজার সহ বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে আগত লোক জনের বেশিরভাগই মাস্ক ব্যবহার করছে। সদর রোডের ব্যাংকগুলোতে গিয়েও দেখা গেছে প্রতিদিনের চেয়ে ভিন্ন চিত্র। প্রায় সব কর্মকর্তাই মাস্ক ব্যবহার করে গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দু একটি ব্যাংকে দেখা গেছে বাড়তি সচেতনতা হিসেবে ক্যাশ কাউন্টারে কর্মরত কর্মকর্তারা হ্যান্ড গ্লোভস পারে গ্রাহকদের টাকা লেনদেন করছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও মাস্ক পরে পন্য বেচা কিনা করছেন।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যেমতে- গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ১২৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যাক্তির সংখ্যা দাড়ালো ১৭৫ জনে।  এদের মধ্যে তজুমদ্দিনে ৭ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৭ জন, দৌলতখানে ১২, ভোলা সদরে ১০, চরফ্যাশনে ৩, মনপুরায় ২৪ ও লালমোহন উপজেলায় ১০১ জন রয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যাক্তিদের মধ্যে ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, ইন্ডিয়া, মালেয়েশিয়া, আবুদাবি, ওমান থেকে আগত প্রবাসীদের সংখ্যাই বেশী বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভোলা জোলার সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী  বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যাক্তিরা সবাই বিদেশ ফেরত। তাদের মধ্যে কয়েক জনের জ্বর ও সর্দি কাশি রয়েছে, বাকিরা মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে আমরা সবাইকে ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছি। এছাড়াও চরফ্যাশন উপজেলায়  হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ভোলার স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে জেলা সদর হাসপাতালসহ প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আটটি করে ওয়ার্ড (আইসোলেশন) রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে আটটি মেডিক্যাল টিম। এছাড়াও আটটি কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে।  প্রতিটি মেডিক্যাল টিমে একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে গড়ে তিন থেকে পাঁচজন কর্মী রাখা হয়েছে।

ইতমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জন সাধারণের চলাচলে কিছু বিধি নিষেধ জারী করা হয়েছে। সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি ছাড়া হোটেলে রাত্রী যাপন, সকল ধরনের সভা-সমাবেশ ও জন সমাগম  বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মানুষকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সকল শিক্ষাথীদের বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে, জনসমাবেশ, খেলা, মেলা, উৎসব স্থগিত করা হয়েছে। চায়ের দোকান, হোটেল রেস্তরা, পার্কে জমায়েত নিষিদ্ধ সহ হাত মেলানো ও কোলাকোলি থেকে বিরত খাকতে বলা হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা কোন ব্যাক্তি আসার খবর পাওয়া মাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এ দিকে হোম কোয়ারান্টাইন না মানায় কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। ভোলা জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে গত বুধবার পর্যন্ত ভোলা জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত ভঙ্গ করায় ০৭ জনকে মোবাইল কোর্ট এ ৪৬,০০০/- টাকা অর্থদন্ড করা হয়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

মানুষের অসহায়ত্বকে পূজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী করনা আতঙ্কে মধ্যে চালের দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়ায় শহরের খালপার সড়কের চালের আড়ৎগুলোতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বস্তাপ্রতি চালের দাম ছয় সাত শত টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আড়ৎদাররা বলছেন তারা বিভিন্ন মিল ও মোকামে যোগাযোগ করে চাহিদামত চাল পাচ্ছেন না। আর যা পাচ্ছন তা তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রি ও করতে হচ্ছ বেশি দামে।

সরকারের পক্ষ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার ঘোষনার পরও শহরের মুদি দোকান গুলোতে দেখা গেছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভীড়। দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পন্য ক্রয় করছেন।

SHARE