প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় পরিবার পরিকল্পনা মাঠকর্মীরা

0
78

আল-মাহামুদ:-
পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারি সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ কর্মচারিদের দাবি পূরনের এক মাত্র আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল (৫জুলাই) শুক্রবার দুপুর ১১টার সময় ঢাকাস্থ সেগুন বাগিচার রিপোর্টার্স ইউনিটে (সাগর রুনি) হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: ফিরোজ মিয়া। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ১৯৭৫ সনের ২৬শে মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশকে রক্ষায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন তথা family planning program বাস্তাবায়ন করার কথা ঘোষনা দেন।

তাঁর নিদেশে মতে, ১৯৭৬-৭৭ সালে তরুন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা এ বিভাগে চাকুরী গ্রহন করে খেয়ে না খেয়ে অনেক সময় বেতন না পেয়ে চাকুরী করেছেন। কর্মচারিদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে আজ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের রোল মডেল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭৫ সালে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী একজন মা গড়ে ৬.৬ জন সন্তান জন্মদান করতেন। বর্তমান সময়ে জনসংখ্যার তথ্যানুসারে গড়ে একজন মা ২.০৫ জন সন্তান জন্মদান করছেন। ১৯৭৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে ৪.৫ জন সন্তান গড়ে কম জন্ম দিচ্ছেন তারা। জনসংখ্যার হৃাসের সাফল্যজনক এ অনুপাত না থাকলে বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি জনসংখ্যা হওয়ার কথা। জনসংখ্যা রোধে এমন সাফল্যজনক কৃতিত্ব একমাত্র পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারিদের বলে দাবি করা হয়

তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াদিন নিয়োগবিধি জুলাই মাসের মধ্যে বাস্তাবায়ন করে পরিবার পরিকল্পনা সহকারি ( (FWA) দের ১১তম গ্রেড এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ( FPI ) দের ১০তম গ্রেড প্রদানে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তারা প্রত্যেক ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডে ৯টি ইউনিট গঠন, কর্মচারিদের অবসর কালীন ২০% পেনশন কর্তন বাতিল, পরিবার কল্যাণ সহকারি ( FWA ) দের ১৭তম গ্রেড উল্লেখ করে যে, পরিপত্র জারি করা হয়েছে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, একটি মহল বিভিন্ন কৌশলে (FWA ) এবং (FPI) দের পদ বিলুপ্তির যে অপচেষ্ট করছেন তা রোধ করতে কর্মচারিদের সক্রিয় থাকার আহবান জানান। জুলাই মাসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন কর্মসুচী ঘোষনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন উপজেলা, জেলা থেকে আসা বিপুল সংখক ( FPI ) এবং ( FWA) দের উপস্থিতিতে বলা হয় এদেশে বাঙালি জাতির যত অর্জন হয়েছে তা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার হাত ধরেই। মুক্তিযোদ্ধাদের শেখ হাসিনা যে ভাবে জাতির শ্রষ্ট সন্তান হিসেবে মুল্যায়ন করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে দেশের প্রধান ও অন্যতম সমস্যা সমাধানের অন্যতম কারিগর ( FPI ) এবং ( FWA) দের দাবি পূরণে শেখ হাসিনা হচ্ছেন শেষ আশ্রয়স্থল। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নিয়োগবিধি সহ তাদের ন্যার্য দাবি যাতে আটকা না পড়ে যায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী একান্ত শুভদৃষ্টি কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদিকা নাজনিন আক্তার, উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, সেল্টন জোয়ারদার, শহিদুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ প্লাবন, অপরূপা রুমি, আয়শা বানু, রত্না দে, দিদারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান টিটু, আবুল বাশার, নরোত্তম মন্ডল, হাফিজুর রহমান, জোবেদা বেগম, সুমি বেগম, মুর্শিদা বেগম, পারভিন বেগম, রাশেদা খনম রিনা, শিরিয়া বেগম, রেশফা আক্তার, মাজেদা খাতুন, লাকি বেগম প্রমুখ।