ভোলার মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকী অভিযোগ

0
15

আদিল হোসেন তপুঃ

ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আলমের পৈত্তিক প্রায় ৫ একর সম্পত্তি জবরদখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার সন্ত্রাসী আলমগীর বাহিনীর বিরুদ্ধে। এমন কী ফারুক আলম এলাকায় এলে প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারবেন না ।এমন হুমকী দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভোলা প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলন করে পৈত্তিক সম্পত্তি উদ্ধার ও নিরাপত্তা দাবি করেন ( সন্ত্রাসীদের হামলায় পঙ্গু ) মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আলম। তার অভিযোগ ওই সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। ভয়ে কেই মুখ খুলতে এবং প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

ফারুক আলম পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় থাকেন। পৈত্তিক প্রায় ৪ একর ৮৮ শতাংশ জমি ও উৎপাদিত ফসল দীর্ঘ ৮০ বছর ভোগ দখল করেন ফারুক আলম ও তার পরিবার। সম্প্রতি ওই এলাকার সন্ত্রাসী ( এক সময়ের বিএনপির ক্যাডার) আলমগীর, জামাল পাটোয়ারী, কামাল, রুহুল আমিন হাজারী, সবুৃজ, শাহেআলম ওই জমির মালিকানা দাবি করে, জোরপূর্বক দখল নেয়। ঢাকায় বসবাসকারী ফারুক আলম স্ত্রীকে নিয়ে কয়েকদিন আগে পৈত্তিক সম্পত্তি এলাকায় গেলে সন্ত্রাসীরা হামলা করে কুপিয়ে পিটিয়ে হাত পা ভেঙে দেয়। অথচ এই সব সন্ত্রাসীদের বাপ দাদারাই এক সময় ফারুক আলমদের সম্পত্তির বর্গাচাষী ছিলেন। ফারুক আলমরা এলাকায় না এলেও বর্গাভাগ বছর শেষে পৌছে দিতেন। হালে ওই বর্গাচাষীদের সন্তানরা নিজেরাই জমির মালিকানা দাবি করে বসেন। এমন অভিযোগ ফারুক আলমের।

দুলারহাট থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ফারুক আলমের উপর হামলার বিষয়টি তিনি জানেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জমির মালিকানা প্রমানের জন্য আলমগীর গংদের কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তারা মূল কাগজ দেখাতে পারেন নি। সময় নেয়। তবে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক দাবি করছেন । অপরদিকে পৈত্তিক সম্পত্তির প্রমানপত্র দেখিয়েছেন ফারুক আলম। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আলম , তার পৈত্তিক সম্পত্তি উদ্ধারে ভোলা-৪ আসনের এমপি সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে সহায়তা চান। এমপি জ্যাকব বিষয়টি নিম্পত্তি করতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আলমগীর বাহিনীকে ওই জমি ছেড়ে দিতেও বলেন। এর পরেও ওই বাহিনী জমি ছেড়ে না দিয়ে উল্টো ফারুক আলমকে এলাকায় এলে হত্যার হুমকি দেয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান ফারুক আলম। অপরদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ওই এলাকার কেরামত আলী মুন্সি ও মনির হোসেন জানান, ওই সন্ত্রাসীরা তাদেরও পৈত্তিক প্রায় ১০ একর সম্পত্তি জোর করে দখল করে নিয়েছে। তারাও কোন বিচার পাচ্ছেন না। এদের ভয়ে এলাকায় কোন মানুষ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। এরা ভুয়া দলিল বানিয়ে জোরপূর্বক মানুষের শত বছরের মালিকানাধিন জমিও দখল করে নিচ্ছে।

দখলবাজ হিসেবে অভিযুক্ত জামাল পাটোয়ারী জানান, তারা ফারুক আলম নামের কাউকে চেনেন না। ওই জমি ১৯৬২ সাল থেকে তার বাপদাদারা ভোগ দখল করতেন। ওই সূত্রে তারা এখন মালিক।