মুন্নি না বিপ্লব কে হচ্ছেন তোফায়েল আহমেদের উত্তরসূরি

0
4017

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ভোলায় কে হচ্ছেন বাংলার শতাব্দি সংস্কারকের আগামীর রাজনৈতিক উত্তরসূরি তা নিয়ে জনমনে নানা কৌতুহল থাকলেও ভোলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ন এই জেলায় তোফায়েল আহমেদের আগামীর উত্তরসুরী মুন্নি হলেও, রাজনৈতিক উত্তরসুরী হতে সময় লাগবে অনেক বছর। যেটা বিপ্লব হতে সময় নিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। আর তাকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠা পেতে সহয়তা করেছেন স্বয়ং জননেতা ও আওয়ামীলীগের ক্ষমতার পূর্ন সুবিধা। অর্থনৈতিক ভাবে সুবিধা না নিয়ে ভোলায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভীত গেড়েছেন বিপ্লব। ভোলা সদরের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে তার ভালবাসার মানুষরাই এখন আওয়ামীলীগসহ সকল অংঙ্গ সংগঠনের ওয়ার্ড কমিটিতে। এছাড়া বিপ্লবের কমিটমেন্ট ও কর্মিদের প্রতি তার ভালোবাসা আর তাদের জন্য কাজ করার প্রবল আগ্রহে ভোলার আওয়ামীলীগের তৃণমূল এখন বিপ্লব প্রেমে মুগ্ধ। এই মুগ্ধতার মোহ কাটিয়ে অন্য কারো সেখানে আসতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়ে দাড়াবে। শুধুই কি সময়? বিপ্লব মন্ত্রীর ক্ষমতাসহ যে অনূকুল সময় পেয়েছেন তা মুন্নির জন্য তোফায়েল আহমেদের এই জীবনে হয়ে উঠবে কিনা তা নিয়েও যথেষ্ঠ ভাবার ইংঙ্গিত দিয়েছেন ভোলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ওয়ামীলীগের ক্ষমতার গত ১১ বছরে তোফায়েল আহমেদ তার পরিবার থেকে নের্তৃত্ব সৃষ্টির অনেক পরিক্ষা নিরিক্ষা চালিয়েছেন। এই পরিক্ষায় তিনি তার পরিবার থেকে একাধিক চেয়ারম্যান, মেয়র ও এমপি বানালেও ভোলার সর্বজন গ্রনযোগ্য নের্তৃত্ব সৃষ্টির জন্য মইনুলকে নিয়ে আসলে তাকে বেশি বেগ পেতে হয়নি বিপ্লবকে গ্রহন করাতে। মন্ত্রিপুত্র হিসেবে নয় তার ব্যাবহার ও কমিটমেন্ট অল্পদিনেই জয় করে ভোলার সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতাদের মন। এছাড়া তৃনমূলের কর্মীরাতো দীর্ঘ দিনের নের্তৃত্ব শূন্যতা কাটিয়ে তরুণ এই ক্যারিশমেটিককে পেয়ে তার প্রেমেই মজেছেন গ্রামের আওয়ামিলীগের আবাল বৃদ্ধা বনিতা। এই পরিস্থিতিতে তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতা, মুন্নির ভোলায় আগমন ও শাড়ি লুঙ্গী বিতরণ তৃণমূলে কতোটুকু প্রভাব ফেলতে পারবে এমনটা ইলিশার এক প্রবীন আওয়ামীলীগারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিপ্লবতো আমাদের আশির্বাদ, নেতাকে ছোট বেলায় যেমন পেয়েছিলাম, বিপ্লবকেও আমাদের সন্তানরা ঠিক একই রকম নেতা হিসেবে পেয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে বিপ্লব ভোলার অদ্বিতীয় রাজনৈতিক হিরো হিসেবে পরিচিত। পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থী রুহুল আমিন জানান, তোফায়েল আহমেদই আমাদের নেতা, নেতা জীবিত থাকতে কাউকে চিনিনা, নেতা যখন যা বলবেন আমরা তার কর্মী হিসেবে তাই পালন করবো। তবে বিপ্লব ভোলার দূর্দিনের পরিক্ষিত আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি আমাদের আশির্বাদ। প্রজন্মলীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার পাশা বিপ্লব তালুকদার বলেন, বিপ্লব তার সামর্থের প্রমান দিয়েই জেলা আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকদের ভালোবাসার মানুষে পরিনত হয়েছেন। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ভোলার সকল ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জিতিয়েছেন কোন প্রকার সংঘাত ছাড়াই। সর্বোপরি ৩০ ডিসেম্বরের এবারের সংসদ নির্বাচনে নেতাকে এক প্রকার প্রতিন্ধীতা ছাড়াই জিতিয়েছেন তিনি। যা তোফায়েল আহমেদ অতীতের কোন নির্বাচনেই এমন স্বাচ্ছন্ধে জিততে পারেন নি। এ ছাড়া ভোলার আওয়ামীলীগের প্রবীন ও তরুন নেতাদের নিয়ে ওয়ার্ড কমিটি করার নামে তৃণ মূলের সকল নেতা কর্মীদের সাথে ওয়ান টু ওয়ান সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বিপ্লব। এর ফল এবারের গেলো নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদ পেলেও তা আগামি পাঁচ বছর পরে তার ফল একক ভাবে পাবে জেলা আওয়ামীলীগ ও মাইনুল হোসেন বিপ্লব। এমন টাই প্রত্যাশা ভোলার তৃনমূলের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের।