ভোলার পিপি কিরণ তালুকদারের মহানুভাবতায় কাঁদলো কোর্ট প্রাঙ্গন

0
1888

ইয়ামিন হোসেন/ মনজু ইসলামঃ
চরফ্যশনের আধুনিক নির্যাতিত আরেক নলীনী ‘ফাতেমা”। তাকে তার শশুর বাড়ির লোকজন আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার জন্য শরিরে আগুন ধরিয়ে দিলে হাত থেকে উপরের দিকে ৮০% পুড়ে যায়। থানায় মামলা হলেও কোন প্রকার প্রতিকার পাননি আগুনে পোড়া আসহায় মেয়েটি। থানা পুলিশ যা করার তাই করলেন মৃত্যু পথযাত্রী মেয়েটিকে ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক স্বীকারোক্তি নিলেন যে, সে আগুন পোহাতে গিয়ে নিজের শরিরে নিজেই আগুন দিয়েছেন। এই স্বীকারোক্তি দেখিয়ে পুলিশ মামলাটির ফাইনাল রিপোর্টও দিয়ে দেন। শ্বশুর পক্ষের লোকজন ভিকটিমকে চাপ দিতে থাকেন কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য। আসহায় ভিকটিম ভয়ে ভয়ে মামলাটি কোর্ট থেকে প্রত্যাহারের জন্য ভোলার নারি ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পিপি কিরণ তালুকদারের কাছে আসেন। কিরণ তালুকদার মেয়েটির কন্ঠে ভয় দেখে মেয়েটিকে আশ্বস্ত করে বলেন, তোমার কোন ভয় নেই বোন তুমি আমার কাছে সব খুলে বল। সাথে সাথে এই প্রজ্ঞাবান পিপি একটি যুক্তিও দাড় করালেন যে, যদি আগুন পোহাতে গিয়ে তোমার গায়ে আগুন লাগে তাহলে তোমার শরিরের নিচের অংশে আগুন লাগবে তোমার হাত থেকে উপরের দিকে আগুন লাগলো কিভাবে? এসব কথা শুনে আসহায় মেয়েটি কান্নাজড়িত কন্ঠে সবকথা খুলে বললেন পিপির কাছে। পিপি সাথে সাথে এই মামলাটি পূর্নঃ তদন্ত ও বিচারের জন্য পুলিশের দেয়া ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারি ও শিশু ট্রাইবুনালে নারাজী দাখিল করেন। ভোলার প্রথম নারি শিশু ট্রাইবুলালের বিজ্ঞ জজ তো নাছর বান্দা। গতো ৭ নভেম্বর ন্যায় বিচারের স্বার্থে ওই কর্মদিবসে প্রথমেই গুরুত্ব দিয়ে ভিকিটিমকে শুনেন এবং মামলাটি সরাসরি আমলে নিয়ে সকল আসামীকে ওয়ারেন্ট দেন নারি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের মানবতা বাদি বিচারক আতোয়ার রহমান। পিপি গোলাম মোরশেদ কিরণ তালুকদারের নারাজী শুনানীর দিন সকল বিজ্ঞ আইনজীবীগন ও বিচার প্রার্থী মানুষগন অধীর আগ্রহে উক্ত মামলাটি শুনেন এবং জার্জ আতোয়ার রহমানের ন্যায় বিচারে তৃপ্ত করেন ভোলার বিচার পাড়া। বিচারকের আদেশ ও পিপি কিরণ তালুকদারের মহানুভবতায় শত বেদনার মাঝেও আনন্দের কান্না কাঁদলেন ওই দিন কোর্ট প্রঙ্গনে আসা বিচার প্রার্থীরা।
পরবর্তীতে ওই মামলার সকল আসামীগন জেল হাজতে যান। এই মামলার সফলতায় বাঁচলো ভোলার মানবতা। বাঁচলো ভোলার বিচারাঙ্গন। আইনজীবীরা ফিরে পেলেন তাদের হারানো সম্মান। আর একজন মানবতাবাদি পিপি প্রমান করলেন মাবতার ফেরীওয়ালারা মরে জাননি, তারা এখনো বেঁচে আছেন কিরণ তালুকদারদের প্রতিবাদি আত্নায়।