ভোলার ভুয়া অধ্যক্ষ নিজামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

নিউজ ডেস্কঃ

ভোলা নিউজ -২১.০৯.১৮

সদ্য বহিস্কৃত ইলিশা ইসলামিয়া মডেল কলেজের ভুয়া অধ্যক্ষ নিজামের দূর্নীতি, জাল-জালিয়াত ও দূর্নীতিলব্দ সম্পদের পাহাড়ের সম্রাজ্য দেখে আৎকে উঠবেন ভোলার যে কোন সচেতন মানুষ। ভোলা নিউজের পাঠকদের কাছে  তার কিছু অবৈধ সম্পত্তির বিবরন তুলে ধরার চেষ্টা করছেে আমাদের প্রধান সম্পাদকের নেতৃত্বে ক্রাইম রিপোর্টাররা।

দূাদক সূত্রে জানা যায়- ০১/০৮/২০০০ইং তারিখে নজিরবিহীন দূর্নীতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদ দখলের পরেও রাজাপুর ওবায়েদুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে বহাল থেকে সরকারের ৫৮৮০,০০০/- টাকা বেতন- ভাতা বাবদ অবৈধ ভাবে উত্তোলন করেন সম্প্রতি বহিস্কৃত অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন।

২০০৫ সাল থেকে ভোলার একমাত্র ৪ বছর মেয়াদী কৃষি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে কলেজটিতে। ২০০৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৬০/৭০ জন ভর্তি হয়। ছাত্র/ছাত্রী প্রতি ৮ সেমিষ্টারে বিভিন্ন অজুহাতে ৪৫০০০/- টাকা আদায় করে। অথচ একজন ছাত্র/ছাত্রীর জন্য বোর্ড খরচ হয় মাত্র ৬০০০/- টাকা। তাতে এই পর্ষন্ত ৭৮০জন শিক্ষার্থী এই শাখায় ভর্তি হয়। যার অর্থ অধ্যক্ষের পকেটস্থ হয় ৭৮০*৩৯,০০০= ৩,০৪২০,০০০/- টাকা।

এ ছাড়া ২০০৪ সালে কলেজটিতে বি. এম শাখা এবং ৮বছর আগে ডিগ্রি চালু হয়। এ দু’টি শ্রেণি থেকে ভর্তি, রেজিঃ ফি, সেশন ফি, মাসিক বেতন, ফরম ফিলাপসহ উপবৃত্তিতে নাম দেয়ার কথা বলে নিজাম এই পর্ষন্ত প্রায় ৫কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দূদকের অভিযোগে রয়েছে।
সর্বশেষ নিজাম উদ্দিন এইচ.এস.সি’র ২০১৭-১৮ শিক্ষা বর্ষের ১৫৩ জন ছাত্র/ছাত্রীর রেজিষ্ট্রেশন ফি’র ৬ লক্ষ টাকা, কলেজের দোকান ভাড়া ও এ্যাডভান্সের টাকা, ব্যাংকের ভাড়াসহ বিভিন্ন ফান্ডের ২কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগে আরো প্রকাশ ভূয়া অধ্যক্ষ নিজাম নিজে লোনের কিস্তি শোধ করবে বলে অত্র কলেজের প্রভাষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

জাল-জালিয়াত,দূর্নীতি, নিয়োগ ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে নিজাম গড়ে তুলেছে বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য। নিম্মের সংক্ষিপ্ত বিবরন দেখলে যে কেউ বুঝতে কষ্ট হবেনা সে কত বড় দূর্নীতিবাজ।

বিবরনঃ (১) ঢাকা পল্লবী, মিরপুর রোড নং-০৮, ব্লক- ই, বাসা নং-২১,৩য় তলায় ২টি প্লাট, ৪র্থ তলায় ১ টি প্লাট ক্রয় করে। যার মূল্য আনুমানিক ২কোটি টাকা।

(২) ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুর্ত্তা মৌজায় মোট ৩টি প্লটে ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করে।

(৩) ঢাকার কেরনীগঞ্জে এনশিওর ল্যান্ড সিটির প্লট বি ব্লক, রোড নং- ০৫ ও ০৭ মোট ৬ কাঠা জমি ক্রয় করে।

(৪) ২ নং ইলিশার নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সমনে দাতা আবুল কালাম ওএবং সৈয়দ আহাম্মদের কাছ থেকে ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভবন ণির্মন কর এনজিও আশা কে ভড়া দেন। দূদক মামলা হওয়ার পরপরই নিজে বঁচার জন্য আপন ভাই নজরুল ও গিয়াসকে লিখে দেন বলে শুনা যায়।

(৫) বাপ্তা ইউনিয়নের চাচড়ায় ৪ নং ওয়ার্ড প্রস্তাবিত পৌরসভায় দাতা জামাল উদ্দিন পিতা আঃ খালেক এর থেকে ৩৬ শতাংশ জমি ৩০ লক্ষ টাকায় ক্রয় করেন।

(৬) বাপ্তা ইউনয়নের মহাজনের পোলের নিকট প্রস্তবিত পৌরসভায় দাতা রতন চন্দ্র দে, রঞ্জন চন্দ্র দে, তুহিন চন্দ্র দে সর্ব পিতা শুসীল চন্দ্র দে, দাতদ সঞ্জয় চন্দ্র দে এবং সঞ্জীব চন্দ্র দে পিতা নারয়ন চন্দ্র দে এর নিকট থেকে ৩২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।

(৭) সাবেক সাব রেজিষ্টার অফিসের কর্মকর্তা কাদের মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে প্রস্তাবিত পৌরসভায় দাতা পাচ্চু লাল দে পিতা- নুর পোদ্দার থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় কর।

(৮) বাপ্তা ইউনিয়নের পোদ্দার বাড়ির পাশে দাতা নরেশ চন্দ্রের থেকে ৬ শতংশ জমি ক্রয় করে।

(৯) ইলিশা ইউনিয়নের ইলিশা বাজারের পাশে বেপারী থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে।

(১০) ইলিশ ইউনিয়নের রাস্তার মাথায় শাহাবুদ্দিন মাষ্টারের থেকে ৩২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।

(১১) অত্র কলেজের বিপরিত দিকে দ্বিতল টিনসেট মার্কেট ক্রয় করেন।

(১২) রাজপুর ইউনিয়নের চঠার মাথায় ১একর জমির বাগান বড়ি করে। যদি তা এখন নদী শিকস্তি। এছাড়া বভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে নামে বেনামে কোটি টাকার হিসাব।

আগামী পর্বে আমরা তুলে ধরবো কিভাবে দুর্ত নিজাম উদ্দিন সুকৌশলে ১২নং ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ দখল করে মামলার ভয় দেখিয়ে মেম্বারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। সাথে থাকুন ভোলা নিউজের……

SHARE