খালেদার বিচার বেআইনি-ফখরুল

0
8

অনলাইন ডেস্ক: ভোলানিউজ.কম,

আগামী সংসদ নির্বাচনে যেনো নেতৃত্ব দিতে না পারেন সেজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার  চিকিৎসার বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বেআইনিভাবে সাজা দিতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে খালেদাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে কারাগারে বেআইনিভাবে আটকে রেখে হত্যা করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ফখরুল।

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার পর থেকে তিনি অন্য কোনো মামলায় আর হাজিরা দেননি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। এজন্য জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারে কারাগারের ভেতরের বসে আদালত।

গত বুধবার আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া তার অসুস্থতার কথা জানান। বিচারকের উদ্দেশে খালেদা বলেন, আমার হাতের অবস্থা ভালো না। ডাক্তার বলছে, পা ঝুলিয়ে রাখলে ফুলে যাবে। রিপোর্ট দেখলে বুঝতেন আমার শরীরের অবস্থা কী। সুতরাং যা ইচ্ছা সাজা দিন, আমি আর আসতে পারব না।

শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল খালেদার অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপার্সন অত্যন্ত অসুস্থ। আমাদের চিকিৎসক ও আইনজীবীরা এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কথা বলেছেন। এটা আমাদের দলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে। যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের প্রশ্ন, বেঁচে থাকার প্রশ্ন, সুস্থা থাকার প্রশ্ন, সেখানে সরকার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

‘তার (খালেদার) পরিবারের সদস্যরা তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তারা এসে আমাদেরকে যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে আমরা শুরু উদ্বিগ্নই নই, আমরা হতবাক ও বিষ্মিত যে এই সরকার তার চিকিৎসার জন্য কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো অসুস্থ নাগরিক সুস্থ না হলে বিচারিক কার্য চালানো যায় না। এটা সম্পূর্ণ অমানবিক ও সংবিধান পরিপন্থী।’

ফখরুল বলেন, ‘সরকার তাকে (খালেদা) শাস্তি দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছে। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে আইন বহির্ভূত এই মামলায় (চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) আদালত জামিন দিলেও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। সম্পূর্ণ মিথ্যা, সন্ত্রাসী ও কাল্পনিক মামলায় তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। যদিও এই একই মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের সবাই জামিনে রয়েছে।’

‘এটা স্পষ্ট যে, দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে রেখে একতরফাভাবে জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করার নীল নকশা নিয়েই এই অপপ্রয়াশ চালানো হচ্ছে। এই সরকার এতোটাই নিচে নেমে গেছে যে, একজন মারাত্মকভাবে অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার কোনও সুযোগ দিচ্ছে না। অথচ চিকিৎসা পাওয়া তার সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।’

আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া যেনো নেতৃত্ব দিতে না পারেন এবং জনগণও তাদের পছন্দমতো ভোট দিতে না পারেন, সেজন্যই তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বেআইনিভাবে সাজা দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

(আল-আমিন এম তাওহীদ, ৭সেপ্টেম্বর-২০১৮ইং)