বোরহানউদ্দিন মানিকা ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা কাঠের ব্রীজ,

0
61

এরশাদ বোরহানউদ্দিন থেকে-ভোলানিউজ.কম,

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউপির উত্তর বাটামারা ৬নং ওয়ার্ডে প্রবেশ পথে ১৫০ফুট দৈর্ঘের চন্দন বাড়িয়া খালের উপর একমাত্র কাঠের ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। সংস্কারের অভাব,বর্ষার পানিতে কাঠ ভিজে পচে যাওয়া.পেরেক থেকে কাঠ ছুটে যাওয়ায় এ নাজুক আবস্থা সৃষ্টি। ফলে ৫ও ৬নং ওয়াডের্র ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ব্রিজটি যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে পড়তে পারে ।

জেলে সম্প্রদায়, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ওই ব্রিজটি। ২০১৫ সালে পারাপারের সময় খালে পড়ে ইউছুব (৫০) মারা যায়। এ সব তথ্য স্থানীয় এলাকারবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, বড়মানিকা ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে চন্দন বাড়িয়া খাল পেরিয়ে যাতায়াতের একমাত্র মাত্র ছিল সাকোঁ। ২০১৩ সালের মেঘনার প্লাবনে ওই সাঁকোটি নাজুক হয়ে পড়ে। পরিষদের অর্থায়নে এর পর সংস্কার করা হয়। ২০১৫ সালে ওই সাকোঁ থেকে পড়ে ইউছুব নামক এক লোকমারা যায়। মাঝে মাঝে সাকোঁ পারাপারের সময় খালে পড়ে অনেক লোক আহত হয়। এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আজম মুকুল’র অর্থায়নে এবং বড় মানিকা ইউপির চেয়াম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন হায়দারের সহযোগীতায় ওই স্থানে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

ব্রিজ নির্মানের ফলে এখানকার বিদ্যমান বিদ্যালয় সমুহ, ক্লিনিক ও স্থানীয় দোকানীদের উপজেলা সদর থেকে পন্য আনা নেওয়া সহজ হয়ে উঠে। ৬নং ওয়ার্ডের বজলুর রহমানের ছেলে নয়ন মাওলানা (৪৫),গনি মিয়ার ছেলে নাজিম(৩৮),ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ(৪০) জুলহাস (২৮) বলেন,একজনের মৃত্যূর পর সাকো ১৫০ মিটার দীর্ঘ কাঠের ব্রিজ হয়েছে।বর্তমানে কাঠের ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন হয়ে ২০হাজার মানুষের পারাপারের অনুপোযোগি হয়ে পড়ছে। উপজেলা থেকে দোকানীদের মালামাল এলাকায় মাথায় করে আনতে হয় মেঘনা ইলিশ শিকারী জেলে, ঢাকাগামী লঞ্চের যাত্রীরা এ পথে চলাচল করে। মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য নষ্ট হচ্ছে শুধু মাত্র এ ব্রীজটির কারণে,। হয়তবা আরেকজন মারা গেলে ব্রিজটি পাকা হতে পারে। স্কুল শিক্ষক আব্দুল হক,কলেজ শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিমু, তানজিল, জোবায়ের জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটাই তাই আমরা চাই এটি জরুরী ভিত্তিতে নির্মাণ করা দরকার। বিবি কুলসুম,সাদিয়া বেগম,রেহানা,আমেনা,তাসফিয়া জানান, এলাকায় কোন মানুষ হঠাৎ অসুস্থ্য কিংবা মহিলাদের ডেলিভারি জণিত কারণে অসুস্থ্য হলেও কোন এ্যাম্বুলেন্স কিংবা মাইক্রো প্রবেশ করতে পারছেনা শুধু মাত্র এ ব্রীজটির কারণে।ব্রিজের কারণে ক্লিনিকেও অনেক কষ্ট করে যেতে হয়। ৬নং ওয়ার্র্ডের ইউপি মেম্বার মো: রফিকুল ইসলাম জানান,চন্দন বাড়িয়া খালের ব্রিজটি বর্তমানে আমাদের গলার কাটা।হটাৎ কোন লোক অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দুরাবস্তার শেষ নাই। বর্তমানে আমরা চরের চেয়ে খারাপ আছি। বড় মানিকা ইউপির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি করুন অবস্থা। মাঝে মাঝে পরিষদের অর্থায়নে সংস্কার করা হয়। মেঘনার উপকূলবর্তী ইউনিয়ন উল্লেখ করে, কয়েকটি জরাজীর্ণ রাস্তাসহ ব্রিজটি নির্মাণের দাবী জানান।

(আল-আমিন এম তাওহীদ, ২৫আগস্ট-২০১৮ইং)