পরিবহনের নৈরাজ্য কোথায় মন্ত্রীকে বললেন মিমের বাবা

0
812

ডেস্ক: ভোলানিউজ.কম,

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় নিহত দিয়া আক্তার মিমের বাসায় গিয়ে পরিবারকে সান্তনা দিয়ে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচারের পাশাপাশি পরিবহন খাতে নৈরাজ্য দূর করারও আশ্বাস দিয়ে এসেছেন তিনি।

আর মন্ত্রীর বাসায় যাওয়ায় ‘খুশি’ মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলমের বিশ্বাস, তিনি বিচার পাবেন। আর এই সাক্ষাতে পরিবহন খাতে নৈরাজ্যের কারণ কী, সেটি মন্ত্রীকে জানালেন তিনি। মন্ত্রীও বললেন, সব কিছুর সমাধান হবে।

মঙ্গলবার মন্ত্রী মহাখালী এলাকায় মিমের বাসায় যান। এ সময় মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম, মা রোকসানা বেগম, বড় বোন রোকেয়া খানম রিয়ার সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটান।

সেখানে আলোচনায় মিমের বাবা অদক্ষ চালকদের দিয়ে বাস চালানো, লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় দুর্বলনা ও ঘুষের বিষয়টি তুলে ধরেন।

মিমের বাবা বলেন, ‘টাউন সার্ভিসে যেভাবে গাড়িগুলো চলে সেগুলো সব অদক্ষ ড্রাইভার। আমি একজন চালক, আমি তো একজন ড্রাইভারের ফাঁসি চামু না। যে দক্ষ ড্রাইভার, আমি চাইব সে যেন সবগুলো সার্ভিসে গাড়ি চালায়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ ড্রাইভারকে পয়সা বেশি দিতে হয় এ জন্য দেয় অদক্ষ ড্রাইভারকে দিয়ে বাস চালায়।’

দুর্ঘটনার ব্যাপকতা বুঝাতে গিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিডনি বলেন, ক্যান্সার বলেন, যাই বলেন, এরচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে রোড অ্যাক্সিডেন্টে।’

‘ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে।’

সরকার কী করতে যাচ্ছে, সেটাও জানান কামাল। বলেন, ‘আমরা সারা ঢাকাকে ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতেছি। ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসলে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।’

‘আমাদের জরিমানাও খুব কম। জরিমানাও বাড়াচ্ছি। আরও নানা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

নিহত মীমের ছোট ভাই রিয়াজুল ইসলাম আরাফাত ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমার বোনের হত্যার বিচার চেয়েছি। তিনি বলেছেন সব দেখবেন।’

‘এ সময় আমার বড় বোন রোকেয়া খানম রিয়া ও আমার পড়াশোনার খরচ ফ্রি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।’

‘আমি মন্ত্রীকে বলেছিলাম গত দুই দিনের আন্দোলন ঠেকাতে সাড়ে পাঁচশ পুলিশ মাঠে নেমেছিল। কিন্তু সেখান থেকে কি দুটি পুলিশকে কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের রাস্তায় দেওয়া যায় না? যারা ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তা পারাপার করে দিতে পারে।’

“এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘রাইট একদম রাইট তোমার কথা। তোমার বিষয়টি ভেবে দেখাব।”

মিমের বাবা আশ্বস্ত

মন্ত্রী বাড়িতে এসে আশ্বাস দেয়ার মিমের বাবার বিশ্বাস, এই বিচার তিনি পাবেন। সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ আমার বাসায় আসছে, খুব ভালো কাজ করছে। এ জন্য আমি তারে ধন্যবাদ জানাই।’

‘আমি ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক হিসাবে প্রধানমন্ত্রীকে জানাই, সবাইরে জানাই, এর বিচারটা যেন সঠিক হয়।’

মন্ত্রী কী বলেছেন, এমন প্রশ্নে মিমের বাবা বলেন, ‘আশ্বাস দিয়েছে সঠিক বিচার হবে। সে যেভাবে বলছে আমরাও খুশি হয়েছে, সে সঠিক বিচার করবে।’

‘এদের লাইসেন্স আছে কি না এর তথ্য করব। যদি লাইসেন্স দিয়াও থাকে, কীভাবে লাইসেন্স দিল, এর কি ঘুষ খাওয়াইয়া লাইসেন্স দিল বিআরটিএরতে? নাকি এরা ইন্টারভিও দিয়া লাইসেন্স নিল-এটা তথ্য করবে, এটা বলছে।’

আপনি কি মনে করেন এর বিচার হবে?- এমন প্রশ্নে জবাব আসল, ‘হ্যাঁ, এইটার বিচার হবে।’

‘বিচার দেশের লোক সবাই চায়। দেহেন ছাত্র ছাত্রীরা সবাই রাস্তায় নাইম্যা .. তারা সাথী হারায়ালাইছে। দেশের মানুষ  দেশের মানুষ সবাই বিচার চায়, আমি চাই। আমার মেয়ের লাইগ্যা দেশের মানুষ সবাই এক ফোটা পানি ফালাইছে। আমার বেদনা সবাই শেয়ার কইরা নিছে।’

‘আমি চাই এর যেন বিচার হোক, আর আরও মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’

‘এইখানে অ্যাক্সিডেন্টটা কীভাবে করল?’

নিজের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মিমের বাবা বলেন, যে এলাকাটিকে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখাতে তা ঘটার কোনো কারণ ছিল না।

‘সে যেখানে অ্যাক্সিডেন্টটা করছে, এইখানে কেমন কইরা অ্যাক্সিডেন্টটা হয়?’

‘গাড়িটা পারাপারি (পাল্লা দেয়া) করার কারণে, ডান সাইডের গাড়িটা ওরে চাপ দেয়ার কারণে, বাস সাইডের দুর্ঘটনা ঘটায়া দিল।’

নগর পরিবহনের যে সংকট, একজন চালকের দৃষ্টিকোণ থেকে সেটি তুলে ধরেন মিমের বাবা। মনে করেন, তদারকি আর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে সব ক্ষেত্রে।

‘টাউন সার্ভিসের যে গাড়িগুলো চলে, তার সব অদক্ষ ড্রাইভার। লাইসেন্স নাই। এই যে লেগুনাগুলো চলে, পুলাপান চালায়। এরা গাড়ির ভিতরে গাঁজা খাইব, পিছনে যাত্রী থাকব। এর মধ্যে গাঁজা খাইব পুলাপান। এইগুলো নিয়ন্ত্রণের অভাব না?’

‘এইগুলো যারা দেখে, তারা একটু প্রেসার দেউক, যে লোকই হউক না কেন, সরকারি লোক, দলীয় লোক, যেই হোক, এদেরকে প্রেসার দেয়া উচিত। এগুলো যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে তাইলে সৌন্দর্য থাকে।’

শহরের মধ্যে চলে লোকাল গাড়িগুলো তাদের কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন নাই্-এটিকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন দূরপাল্লায় বাস চালানো এই চালক।

সব কিছু খতিয়ে দেখব: মন্ত্রী

এই দুর্ঘটনার বিষয়ে কেবল এই চালক নয়, পুরো পরিবহন খাতের সমস্যা নিয়ে কাজ করার কথা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি যে একজন অদক্ষ ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে কিংবা তার গাড়িতে যান্ত্রিক দ্রুটি ছিল।’

‘অদক্ষ ড্রাইভিার হোক আর ত্রুটিপূর্ণ গড়ি হোক, কোনোটা এই ঢাকা শহরে চালানো উচিত না।’

‘গাড়িটি আমরা চেক করছি। তার লাইসেন্স আছে কি না, সব কিছু আমরা দেখব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এটার ওপযুক্ত বিচার অবশ্যই হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি তার হবে। …যাতে এ রকম আর না হারায়, রোড অ্যাক্সিডেন্ট যাতে কমে সে জন্য আমাদের সরকার অনেক কিছু করছে, আমরা অনেক কিছু করছি। আমরা ভবিষ্যতে রোড অ্যাক্সিডেন্ট কমানোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

যাদেরকে ধরা হয়েছে তাদের লাইসেন্স আছে কি না-এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই তো মাত্র ধরেছে, আমরা সব কিছু দেখব। কার দোষে এটা হলো, সব কিছু আমরা চেক করব। করে সে যে অন্যায়টি করেছে, সেই অন্যায়ের জন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।’

ফিটনেসহীন গাড়ি কেন এবং কীভাবে চলছে- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘সব কিছুরই এখানে দেখার ব্যাপার রয়েছে। যে মালিকটা চালায় সে কিন্তু জানে তার গাড়ির ফিটনেস নাই্। কাজেই মালিকরা কেন চালায় কীভাবে চালায় সেটাও দেখার বিষয় আছে। ফিসনেসহীন গাড়ি কেন চলে সেটাও দেখার বিষয় আছে। সবগুলো দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

(আল-আমিন এম তাওহীদ, ৩১জুলাই-২০১৮ই)