আমাদের সমাজের মানবিক দৃষ্টি কোথায় যাচ্ছে? আবুল কাসেম,

0
87

ভোলানিউজ.কম,

আমরা মানুষ সামাজিক জীব আমাদের নৈতিক আদর্শ সবচেয়ে উন্নত ন্যায়-পরায়নতা থাকা উচিৎ বলে মনে করি। দিন দিন মানুষের আচারণ হ্রাস পাচ্ছে, মূল্যবোধটুকু বিলীন হয়েছে। সমাজে একশ্রেণী প্রভাবশালী রয়েছে তারা নিজেদেরকে অনেক কিছু মনে করেন। এদের মনে যখন যা ইচ্ছা তা করতে একটু বিবেকেও নাড়া দেয়নি।হিংস্র প্রানীদের মতো আচারণ করছে যা সমাজের বর্হিভূত। সমাজের মধ্যে বেচে থাকতে হলে মানুষত্ব্য পরিচয় নিয়ে বেচে থাকা উচিৎ। আমরা সমাজে যারা অর্থ সম্পদশালী রয়েছি তাদের কাছেই আসবে অসহায় ব্যক্তিরা। আমাদের কাছে এসকল অসহায় ব্যক্তিরা একটু সহানুভুতি পেলে অনেকটাই শান্তি পায়।

বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে একটি ঘটনা দেখে নিজের কাছে খুবই খারাপ লাগে। আজ আমাদের বিবেক কোথায় লুকিয়ে আছে?। মানুষ কেন এমন হলো? মানুষের অন্তরের সেই ভালবাসা আজ কোথায়?। একটি শিশু যদি আমাদের কাছে নিরাপদ না হয় তাহলে আমরা কোন জাতি?। মানুষের উপর অত্যাচার জুলুম নির্যাতন করলেই নিজেকে অনেক বড় মনে করা যায়?।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অনাথ শিশু মাহিকে (৮) খুন্তি গরম করে ছ্যাঁকা ও নির্যাতন করেছে খোকন দম্পতি। শিশুটি নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে চিৎকার করলে প্রতিবেশী জাকির হোসেন শনি শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই দম্পতিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। এই ঘটনাটি খুবই দুৎখজনক একটি ঘটনা। আমার ইচ্ছে হয় শিশুটিকে যেমন অত্যাচার নির্যাতন করেছে, তেমনি আমি এই অসভ্যকে তেমন অত্যাচার করি।

সমাজ আর সমাজে নেই মানুষের ভালবাসা শেষ হয়ে গেছে। গরিব অসহায়দের প্রতি আমরা এখন এমন আচারণ করছি যা পূর্বে কখনো ছিলনা। মানুষ কেন এতোটা খারাপ হলো?। জগতের শ্রেষ্ঠ জীব হয়েও আমরা কি রকমের প্রতিনিয়ত আচারণ করছি। একটি ছোট শিশুকে আপন কেন করতে পারছিনা?। এই শিশুটি যদি আমার সন্তান হতো?। শিশুটি যদি আমার বোন হতো?। বা এই শিশুটি যদি আপনার মেয়ে হতো? তাহলে আপনি এভাবে নির্যাতন করতে পারতেন?।

পরিশেষে, নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি। সমাজ থেকে কুলষিত মুক্ত করি সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমরা যেখানে অন্যায় দেখবো সেখানে প্রতিবাদ গড়ে তুলবো। নৈতিক আদর্শ সহানুভুতি এবং একে অপরের প্রতি ভালবাসা রেখে জিবন-যাপন করি- আবুল কাসেম সৌদি প্রবাসী।লেখায় ভুল হলে ক্ষমা চোখে দেখবেন।

সৌদি প্রবাসী আবুল কাসেম এর ফেসবুক থেকে সংগৃহিত লেখাটুকু, তার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের খুশিয়া গ্রামে। তিনি দীর্ঘ যাবত সৌদি আরবে থাকেন। প্রচন্ড রৌদের ভিতরে জীবন-যাপন করে দুটি পয়সা আয় করেন। তার কিছু টাকা এলাকার অসহায় মানুষের সেবাদান ব্যয় করেন।

একজন প্রবাসী যদি এমন উদারতা মনের হয় তাহলে আমরা কি পথে যাচ্ছি এগিয়ে?।

(আল-আমিন এম তাওহীদ, ২৩জুলাই-২০১৮ই)