স্যার আমারে একটা কার্ড কইরা দেন, দুই মুঠ ভাত পেট ভরে খাই

0
123

ইয়ামিন হোসেন,ভোলা ॥

“স্যার আমারে  একটা কার্ড কইরা দেন। একদিন দুই মুঠ ভাত পেট ভরে খাই” এই কথাগুলো এই প্রতিনিধিকে বললেন, ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মতলব (প্রাক্তন) চেয়ারম্যান বাড়ীর পূর্বপাশের কোনার বাড়ীর বকুল (৩০)। মাত্র ৫ বছর বয়সে বকুলের বাবা আবুল (আলী) হোসেন মারা যায়। বড় ২ ভাই ও মাকে নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে ভালোই চলছিল তাদের সংসার। বড় দু’ভাই বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায় এবং তাদের কোন খোজ রাখেন না। তার মা ও সে নিজে এলাকায় কাজ কাম করে চলত। অভাব অনটনের কারনে এবং এলাকায় কাজ না থাকায় তার মা তাকে নিয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে ঢাকা চলে যায়। ঢাকা গিয়ে মানুষের বাসায় মা মেয়ে দু’জনে কাজ করত। তখন ভালোই চলছিল তাদের সংসার। ঢাকায় মানুষের বাসায় কাজ করে খেত এবং প্রতি মাসে কিছু টাকা তাদের জমা থাকত।
ঢাকা থাকার ৪ বছর পর মা মেয়ে গ্রামের বাড়ীতে আসেন। গ্রামের বাড়ীতে আসার পর তার মা ও এলাকাবাসীর সহায়তায় বিয়ে হয় বকুলের। বিয়ের পর বকুল আর ঢাকা যায়নি। স্বামীকে নিয়ে থেকে যায় বাবার রেখে যাওয়া ভিটাতে। মা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে আবার চলে চান ঢাকায়। ভালোই চলছিল বকুলের সংসার। বছর পর কোল জুড়ে আসে পুত্র সন্তান। সন্তান প্রসবের সময় বকুলের বকুলের প্রচন্ড জ্বর ছিল। সন্তান প্রসবের ৩ দিনের মাথায় প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন বকুল। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বকুল আর দাড়াতে পারেনি। তার দু’পা অবশ হয়ে যায়। সেখান থেকে সে এখন প্রতিবন্ধী। বকুল প্রতিবন্ধী হওয়ার পর তার স্বামীও তাকে ছেড়ে চলে যায়।

বকুলের মা মোমেনা খাতুন (৭৬) বলেন, এখানে খাওয়ার কষ্টের কারনে ঢাকাতে গিয়ে বাসায় বাসায় কাজ করতাম। মেয়েটি অসুস্থ্য হওয়ার কারনে মেয়েকে রেখে আর ঢাকাতে যেতে পারিনাই। অসুস্থ্য মেয়েকে নিয়ে এখন অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। মেয়েটি দাড়াতে পারে না সারাদিন শুয়ে বসে থাকে। আর আমি এলাকায় কাজ কাম করে মানুষের দ্বারে খুজে খুজে দিন কাটাচ্ছি। আমি এখন পর্যন্ত সরকারী ভাবে কোন ভাতা পাইনি। আমার চেয়ে অনেক ভালো ভালো লোক সরকারী কার্ড পায়, চাল পায়, টাকা পায়। অথচ আমার ও আমার মেয়ের ভাগ্যে কোন সাহায্য সহায়তা জুটেনি। বহু জনের কাছে ধরনা ধরেছি একটি কার্ডের জন্য কিন্তু আমার ও আমার মেয়ের কপালে কিছুই জুটল না। আমার কপাল খাপার তা না হলে আমি কেন কোন সরকারী সহায়তা ভাতা পাব না। এখন রোজা চলছে কিভাবে যে রোজা রাখছি তা বুঝাতে পারব না। খেয়ে না খেয়ে রোজা রাখছি।
বকুল ও তার মায়ের ব্যাপারে স্থানীয় বর্তমান চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টুকে মোবাইলে রিং করলে তিনি রিসিভ না করার কারনে এ ব্যাপারে তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী বকুল ও তার বয়স্ক মা মোমেনা খাতুন যেন সরকারী সহায়তা পেতে পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।