ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়টি ধারায় সংশোধন চায় টিআইবি

0
30

অনলাইন ডেস্ক,ভোলানিউজ.কম,

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।

বাক-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখতে এই ধারাগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়। টিআইবি যেসব ধারার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, সেগুলো হলো ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮।

খসড়া আইনটি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করতেও সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ধারাগুলো সংশোধনী ছাড়া প্রণীত হলে সার্বিকভাবে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সম্ভাবনা ধুলিস্যাৎ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

খসড়া আইনটিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি দাবি করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনটি প্রণীত হলে শুধু মত প্রকাশের ক্ষেত্রেই নয়, গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সকল নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।’

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হওয়া আইনটি পাসের জন্য সংসদে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। তবে অনুমোদনের পর থেকেই খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এমনকি বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে দেখা করে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত নয়। এটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সংসদীয় কমিটিও এ নিয়ে কাজ করছে। আর তারা বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করেই প্রস্তাবিত আইনটির বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী।

তবে টিআইবি বলছে, খসড়াটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ সত্ত্বেও ধারাগুলো সংশোধন না করেই সংসদে উত্থাপিত হওয়া হতাশাজনক।

‘এ আইনের ফলে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশ যেমন অসম্ভব হয়ে পড়বে, তেমনি এসব অপরাধের সুরক্ষার মাধ্যমে অধিকতর বিস্তৃতি ঘটাবে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হলে বহুল আলোচিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিলোপ হবে। আর এতে ওই আইনের ৫৭ ধারাও আর থাকবে না।

তবে এখনই ৫৭ ধারার বিলোপ চান টিআইবি প্রধান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক বিধি নিষেধ সাপেক্ষে সংবিধান মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কাছে অসহায়।’

‘তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীসহ মূল ধারার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একদিকে অভূতপূর্ব ভীতি ও অন্যদিকে ভীতিপ্রসূত স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিয়েছে, যা বাক্-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন দায়িত্ব পালনের প্রধান অন্তরায় বলে বিবেচিত হচ্ছে।’

(আল-আমিন এম তাওহীদ,০২মে-২০১৮ইং)