ভোলা রন ক্ষেত্র, নিহত -১ আহত শতাধিক, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন।।

 

মনজু ইসলাম/ টিপু সুলতানঃ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ভোলা জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ভোলা সদর রোড রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। ঘন্টাব্যাপি পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। ৩১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে ঘটা এ ঘটনায় ১২ জন পুলিশ সদস্য ও ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমসহ শতাধিক বিএনপি নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত নুরে আলম ও ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্রদল সাধারন সম্পাদক সুমনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিমে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাদের ২ জনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। ঘটনা স্থল থেকে পুলিশ ১১ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে। ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে পুলিশ ও বিএনপি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে, গ্যাস, বিদ্যুতসহ নিত্যপন্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের লোডশেডিং এর প্রতিবাদে আজ বিবার বেলা ১১ টায় ভোলা জেলা বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। শহরের কালীনাথ রায়ের বাজার এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমাবেশ শেষে মিছিল করতে রাস্তায় নামে দলীয় নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে তাদের। সংঘর্ষে পুলিশকে লক্ষ করে ব্যপক ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৩০ রাউন্ড টিআরসেল ও ১৬৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নেতাকর্মীরা আহত হলে তাদের ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় দক্ষিন দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের হারেছ মাতব্বরের ছেলে স্বচ্ছাসেবকদল নেতা আব্দুর রহিম মারা যান।বেলা ১ টায় জেলা বিএনপি সভাপতি গোলামনবী আলমগীর শহরের তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে কেদ্র থেকে পূর্ব ঘোষিত কর্ম সুচিতে বিএনপি নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আব্দুর রহিম নিহত হয়েছেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ূন কবির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন, ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলম, মমুন, লিটন, সালাউদ্দিন, আকবর, সুমন, ফারুকসহ আরো শতাধিক নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার বিচার দাবি করেন। এবং দ্রুত গ্রেফতার কৃতদের মুক্তিরও দাবী করেন জেলা বিএনপি সভাপতি।ভোলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম ও বিকেলে তার সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে সংবাদিকদের জানান, বিএনপি কর্মীরা প্রথমে পুলিশকে লক্ষ করে বৃষ্টির মত ইট পাটকেল ছোড়তে থাকে। বিএনপি কর্মিরা পুলিশকে লক্ষকরে কাচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে এবং তারা সর্টগানের গুলিও নিক্ষেপ করে সেই গুলির আঘাতে পুলিশের বিশেষ সাখার একজন কনেস্টেবল আহত হয়ে বর্তমানে বরিশাল চিকিৎসাধিন রয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে ৩০ রাউন্ড টিআরসেল এবং ১৬৫ রাউন্ড সর্ট গানের গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে আরো ১১ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছ।দিন ভর থেমে থেমে উত্তেজনা বিরাজ করলেও দুপুরের পর উত্তেজনা কিছুটা কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। এরপর সন্ধায় যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ শাহিনের ও সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আবু সায়েমের নেতৃত্বে বিেনপি নেতাকর্মীদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সদর রোডে বিক্ষোভ করলে শহরময় ফের আতংক ছড়িয়ে পরে। এ সময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। রাত ১২ টার আগ পর্যন্ত শহর পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তহ্যার ঘটনাসহ পুলিশ এসল্ডের মামলার প্রস্তুুতি চলছে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

SHARE