ভোলার ইলিশায় স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীসহ আহত ৩

নুরুদ্দিন পারভেশঃ-
ভোলায় স্বামীর বেধড়ক হামলায় স্ত্রী, শ্বাশুরি ও শালি সহ ৩ নারী আহতের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ তারিখ মঙলবার ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়াডের বাঘার হাওলা গ্রামের ইউনুছ মালের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় মারাত্মক আহত গৃহবধূ শাহনাজ (২২) ভোলা সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়াডে ভর্তি আছেন।হামলায়।অপর আহতরা হলেন শাহনাজের মা অজুফা ও তার বোন আকলিমা।
হামলায় মারাত্মক আহত গৃহবধূ শাহনাজ জানান গত ১৮ তারিখ মঙলবার আমি ও আমার স্বামী আলআমিন আমার বাবার বাড়িতে ছিলাম। আমার বাবা আলমগীর একজন মাহেন্দ্র চালক। ২-৩ দিন আগে আমার বাবা সমিতির থেকে কিছু টাকা লোন নেয়। সেই টাকা গুলো।আমাদের ঘরেই ছিল। আমার স্বামী আল আমিন সে টাকা গুলোর বিষয়ে জানতো। ঘটনার দিন মঙলবার ভোর ৬ টার দিকে আমার বাবা বাসা থেকে বের হওয়ার পরে আমার স্বামী আল আমিন আমাকে সে টাকা দিতে বলে। আমি সে টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার স্বামী আল আমিন আমাকে বেধড়ক কিল গুসি মারতে থাকে। তার মারধরের কারনে আমার চোখ ও ঠোটে মারাত্মক জখম হয়। আমার আত্মচিৎকারে ঘরে থাকা আমার মা অজুফা ও বোন আকলিমা আমাকে রক্ষা করতে আসলে আমার স্বামী তাদেরকে ও মারধর করে। সবার চিৎকারে বাড়ির অন্য ঘরের লোকজন এগিয়ে আসলে আল আমিন পালিয়ে যায়।
আহত গৃহবধূ শাহনাজ আরো বলেন প্রায় ১ বছর আগে আমার স্বামী আমাকে বেধড়ক মেরে পুকুরে ফেলে দেয় তথন বাড়ির লোকজন পুকুর থেকে উঠিয়ে আমাকে বাচায়। সেসময় আমি আহত হয়ে ৩ দিন ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। সেসময় আমি মামলা করতে চাইলে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়াডের লোকমান মেম্বার মামলা করে না বলে শালিসির মাধ্যমে সে মিমাংসা করে দেয়। কিন্তু তারপরেও আল আমিন আমাকে বিভিন্ন সময় মারধর করে। আমি এ নির্যাতনের বিচার চাই।
এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত আলআমিনের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেস্টা করেও সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নরে ৫ নং ওয়াডের মেম্বার লোকমান বলেন আমি গত বার আলআমিন ও ওর স্ত্রীর শালিস করেছি কিন্তু মামলা না করার জন্য ওদেরকে কোন নিষেধ করিনি। এবারের মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি।

এবিষয়ে জানতে ভোলা সদর থানার ওসি ছগির মিয়া ব্যস্ত থাকার কারনে তাকে ফোন দিয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

SHARE